অধ্যায় এক
যে ছেলেটাকে সবাই ভয় পেত
বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার প্রথম দিন।
চারদিকে নতুন মুখ। নতুন ভবন। নতুন স্বপ্ন।
কেউ বন্ধু বানাতে ব্যস্ত, কেউ সেলফি তুলছে, কেউ ক্লাসরুম খুঁজে বেড়াচ্ছে।
আমি একা দাঁড়িয়ে ছিলাম প্রশাসনিক ভবনের সামনে।
হঠাৎ চারপাশে অদ্ভুত একটা নীরবতা নেমে এল।
তারপর দেখলাম, একজন ছেলে হেঁটে আসছে।
ছেলেটার হাঁটার ভঙ্গিতে কোনো তাড়াহুড়ো নেই। অথচ তাকে দেখেই আশপাশের ছেলেরা রাস্তা ছেড়ে দিচ্ছে।
কেউ সালাম দিচ্ছে।
কেউ নিচু গলায় কথা বলছে।
আমি পাশে দাঁড়ানো এক মেয়েকে জিজ্ঞেস করলাম,
"ও কে?"
মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল,
"নতুন?"
"হ্যাঁ।"
"তাই চিনো না। ও জাবেদ ভাই।"
"কী করেন?"
"এই প্রশ্নটা করো না। সবাই নিজের মতো একটা উত্তর দেবে।"
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম।
একজন মানুষকে নিয়ে এত ভিন্ন ভিন্ন ধারণা কীভাবে সম্ভব?
জাবেদ আমাদের পাশ দিয়ে চলে গেল।
একবারও এদিকে তাকাল না।
কিন্তু অদ্ভুতভাবে আমার মনে হলো, এই মানুষটার হাসির চেয়ে তার নীরবতার ইতিহাস অনেক বড়।
সেদিন আমি জানতাম না, কয়েক মাস পর আমি নিজেই তার জীবনের সবচেয়ে জটিল সমীকরণ হয়ে উঠব।
আর সে...
সে হয়ে উঠবে আমার সবচেয়ে সুন্দর ভুল।
আমি তখনও বুঝিনি, কিছু মানুষকে ভালোবাসা মানে তাদের পাওয়া নয়।
তাদের ভেতরের ঝড়টাকেও নিজের জীবনের অংশ করে নেওয়া।
সেদিন ক্লাসে আমার মন বসেনি।
বারবার জানালার বাইরে তাকাচ্ছিলাম।
কেন জানি মনে হচ্ছিল, আজকের দিনটা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন নয়।
আজ থেকে আমার জীবনেরও নতুন অধ্যায় শুরু হলো।








