১৩ টি গোলাপ

All Rights Reserved ©

Summary

সুজন তার প্রেমিকার সাথে দেখা করতে যাই কিন্তু ধরা খাই তার বাপের কাছে।এরপর একের পর এক ঘটনার পর সবার মৃত্যু হয়।কিন্তু কেন হয়

Status
Complete
Chapters
1
Rating
n/a
Age Rating
18+

Chapter 1

সুজয় রিংকির দীর্ঘদিন থেকে পরিচয় ফেসবুকের মাধ্যমে সময় সুযোগ বুঝে তাদের মধ্যে ফোনে কথা হয ম্যাসেজ বিনিময়ও হয় সেখানে রাগারাগি, ঝগড়া, মান-অভিমান, খুনসুটি সবই চলে ওদের মধ্যে অবশ্য দিনশেষে একজন আরেকজনের সাথে কথা না বলে থাকতে পারেনা সেদিন সন্ধ্যায় পড়ার টেবিলে রিংকি যখন মোবাইলটা হাতে নিল নিয়েই দেখলো সুজয় ম্যাসেজ দিছে “তারাতাড়ি নিচে এসো তোমার জন্য অপেক্ষাই আছি” রিংকি দৌড়ে গেলো বারান্দায় দেখলো তার সপ্নের পুরুষ তার বাসার সামনে কলা গাছের মতো দাঁড়িয়ে আছেতখন ম্যাসেজে বললআম্মু নামতে দিবে না সুজন রিপলায় দিলো কিছু একটা বলে আসোরিংকি লজ্জা পেয়ে বলল আসতেছিরিংকি দৌড়ে ঘরের বাহিরে এসে সিড়ি দিয়ে নামতে লাগলোলিফটের জন্য অপেক্ষা করার ধৈর্য্য তার নেই শখের বেটার জন্য কোন মেয়েরি বা ধৈর্য্য থাকেমা বকলে বকবে বকাই তো সে খাবে তাতে কি এসে যাই নিচে নেমে সে সুজয় কে দেখে তারা এক হাতে তারোটা গোলাপ ফুল আর অন্য হাতে তেরোটা চকলেট রিংকি দেখে গদ গদ হে বলল কেন আসেছো তুমি?” সুজয় বলল" আমি আমার পরীটাকে দেখতে এসেছি"রিংকির লজ্জা পেয়ে মুখটি লুকিয়ে বলল" আজব তো এসব তুমি কি বলো হ্যাঁ আমার তো লজ্জা লাগে!!!!!! রিংকি একথা বলে এক হাত দিয়ে মুখটি লুকিয়ে অন্য হাত দিয়ে চকলেট এবং ফুলগুলি নেয়ার চেষ্টা করলঠিক সে সময় রিংকির বাবা এসে রিঙ্কি হাতটা জোরে করে ধরে ফেললো আর বলল এই ছেলেটাকে রিংকি? রিংকি চিন্তাও করেনি তারা বাবা এভাবে আসবে তার সামনে। রিংকি নিজেকে সমলিয়ে বললও আমরা বন্ধু রিংকির বাবা খুব শান্ত গলাই বললএই ২৫ -৩০ বছরের বয়স্ক লোক তোমার বন্ধু? তোমার নিজের বয়সই তো ১৪ এই কথা শুনে রিংকির ঘাম ছুটে গেলকি বলবে বাবাকে এটা তার বুড়ো বয়ফ্রেন্ডরিংকির বাবা সুজয় কে বললচলেন আমার বাসায় আমরা মেয়ের মাথা খাইছেন আমার বাসার রাতের খাবার খেয়ে যান সুজয় না করবে কিন্তু করতে গিয়েও পারলো না কারণ ততক্ষণে তার হাত শক্ত করে ধরছে রিংকির বাবা। এখন প্রেম করেছে সে প্রেমের মাশুল হাড়ে হাড়ে দেওয়া লাগবে তার এটা বুঝতে বাকি থাকলো না তার।রিংকির বাবা টেনে নিয়ে ঢুকলেন গ্যারেজের মধ্যে এরপর লিফটলিফটে সুজয় কারোর মুখের দিকে তাকাতে পারলো নারিংকির চোখে পানি আর তার বাবার মুখ দুঃখ ও রাগে অদ্ভুত এক আকৃতি ধারণ করেছেলিফটের মধ্যে ৩ মিনিট সময় যেনো ৩ ঘন্টা মনে হতে লাগলো রিংকির ফ্লাটের সামনে দাঁড়াতেই দরজা খুলল রিংকির মারিংকির মা সুজন কে দেখে একটু আশ্চর্য হলেন নাএটা দেখে সুজয় একটু অবাক হলেনমনে মনে চিন্তা করলেন এই ভদ্রমহিলা কি জানতেন আমি আসবোহয়তো বারান্দা থেকে রিংকি ও সুজয় কে দেখেছে হয়তোসুজয় ঘরে ঢুকে ভয়, আশ্চর্য,আশংকা সব এক সাথে হলেন ও পেলেনকারন সম্পূর্ণ বাসা কালো রং করা আরো সবকিছু কালোপর্দা থেকে শুরু করে চেয়ার টেবিল আলমারি সবএর পর আবার পুরো বাসা সাউন্ড প্রুফ করা না বাহিরের আওয়াজ ভেতর আসেনা ভেতরের আওয়াজ বাহিরে যাইড্রয়িং রুমে বসতেই সুজয় এর মেরুদণ্ড ঠান্ডা হয়ে গেল কারন তাকে স্বাগত জানালো ঘরে কোনে থাকা একুরিয়াম এর মধ্যে থাকা এক কোবরা সাপ তাও সুন্দর ফনা তুলে রয়েছে। এটা দেখে সুজয় কিছু বলতে যাবে তখনি রিংকির মা খুব ঠান্ডা গলাই বললএটা আমাদের ছেলে এর নাম নাগবাহাদুর”।সাপ আবার ছেলে এটা বলতে যাবে ঠিক তখনি রিংকির মা এই সাপের ইতিহাস বলতে শুরু করলোএই সাপের বংশধর নাকি তাদের সাথে ছিলএইসব শুনে সুজয় এর আত্মা যাই যাই অবস্থারিংকির মা তার ছেলে নাগ বাহাদুর এর কথা শেষ করে বলল তোমার রক্তের গ্রুপ কিএটা শুনে সুজয় আবার হতবাক ও এখানে প্রেম করতে আরছে না বিদঘুটে চিড়িয়াখানাইযাই হোক সুজয় আমতা আমতা করে বলল জানিনাএরপর রিংকির বাবার প্রশ্ন করলেনগাড়ি বা বাইক কিছু নিয়ে আসছেন? “ সুজয় উত্তর না শুনে রিংকির বাবা হাফ ছেড়ে বাঁচলেনআবার জিজ্ঞেস করলেনতুমি এখানে আসছো কে কে জানে?”সুজয় এই বারের উত্তর না শুনে রিংকির বাবা মা অনেক শান্তি পেলেন সুজয় তাদের চেহারা দেখে বুঝতে পারলো। তারপর ভদ্রতার খাতিরে কফি দিলো রিংকির মা। সুজয় বলে উটলো আমি কিটো ডাইটে আছিরিংকির মা বলল এখন এইসব বলে লাভ নাই যা হাওয়ার তা হয়ে গেছেকি হয়ে গেছে জিজ্ঞেস করল সুজয়উত্তরে পেল প্রেমএই উত্তর টি দিয়ে রিংকির মা বাবা খুব খারাপ ভাবে হেসে উটলোহাসি দেখে সুজয় এর বুকের মধ্যে কেঁপে উটলোঠিক তখনি রিংকির মা বলল চুপচাপ কফি খানএটা শুনে সুজয় কফিতে চুমুক দিতে যাবে তখনি শুনলো এটা দরজা ধাক্কার শব্দপাশের রুমের দরজার শব্দ।। সুজয় বলল কে ওই রুমেরিংকির মা বলল রিংকির ছোট বড় আছে ওই রুমে সে মানসিক ভারসাম্যহীনসুজয়ের এই কথাটা শুনে খটকা লাগলোসে এই খটকা নিয়ে কফিতে চুমুক দিতেইতার মুখ ব্রিশ্রি স্বাদে নষ্ট হয়ে গেলসুজয় এক প্রকার চিৎকার দিয়ে বলল এটাকি কফি না বিষতখনি রিংকির মা হাসি মুখে বলল এটা সিন্নামং কোদামং কফিসুজয় এবার ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেছেসে আর এইখানে থাকবে নাসে দাঁড়িয়ে বলল আমাকে যেতে হবে বাসায় কাজ আছেএই কথা শুনে হাসতে শুরু করলো রিংকির মা বাবা রিংকির বাবা হাসি থামিয়ে বলল আবশ্যই যাবেন রিংকির বড় বোনের সাথে দেখা করে যান সুজয় বলল ঠিক আছে এই বাড়ির শেষ চিড়িয়ার সাথে দেখা করে যায়এটা কেন বাকি থাকবেরিংকির মা গেল তার বড় মেয়ে কে দেখতে সব ঠিক আছে কিনানতুন অতিথি তার মেয়ে কে দেখবে একটু ওলোট পালোট হলে তো সমস্যারিংকির বাবা সুজয় এর তাকিয়ে রয়েছে আর মুখে চাপা হাসিঠিক সেই সময় নাগ বাহাদুর ফোস করে উঠলোরিংকির বাবা সাপ টার দিকে তাকিয়ে বলল তোর বোন তোর জন্য খাবার এনেছেতুই একটু পরে খাবার পাবিসুজয় এর কাছে এসব কথা পাগলের প্রলাপ মনে হল নাকিছু একটা অর্থ আছেরিংকি সাপের জন্য কি খাবার আনলোএটা সে নিজেই বুঝতেছে না সে শুধু চকলেট আনছিল রিংকির জন্যএটা কি এখন সাপ খাবেআর রিংকির তো কোন ভাই বোন নাই এই সাপ ছাড়া ঠিক এই কথা মনে হাওয়ার সাথে সাথে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পরলোসে রিংকি কে ডেকে জিজ্ঞেস করবে তোমার তো বোন নাই তুমি বলছিলা ম্যাসেজ এ কিন্তু রিংকি কই তার পাশে সে এই বাসার ঢুকার পর থেকে রিংকি তার পাশে কখন ছিল নাএই বিদঘুটে বাসায় ঢুকার পর রিংকি কই সেটা সে খেয়াল করেনিএখন কার সাথে তাকে দেখা করানো হবেসে এই কথা চিন্তা করে দৌড় দিয়ে বের হয়ে যাবে ঠিক সেই সময় রিংকির বাবা হাত শক্ত করে নিয়ে গেল অন্য রুমেওই রুমে কাঠের গুরির উপর মানুষের হাত টুকরো টুকরো করতেছে তার প্রিয়োতমা রিংকিরিংকির মুখে রক্ত আর ঘামতার পাশেই পরে আছে একটা হাত পা কাটা মেয়ে তার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে প্রচুরসে কিছু বলতে যাবে কিন্তু পারলো নাকারন তার জিহ্বা আগেয় কেটে ফেলা হয়েছেতারই পাশে কত গুলো মানুষের মাথা,চামড়া, হাড় আর সারা ঘরে রক্ত।। সুজয় চিৎকার দিয়ে দৌড়াতে গেল কিন্তু রিংকির বাবা সুন্দর ও নিখুঁত ভাবে এক কোপে সুজয় এর মাথা টা নামিয়ে দিলোএইদিকে রিংকির কোন ভ্রুক্ষেপ নেই যেন এটা তার কাছে এটা স্বাভাবিক ব্যাপারঠিক সেই সময় রিংকির মা রিংকির বাবা কে বলল আজ পযন্ত তোমার আক্কেলটা হলো নাএই ভাবে যে কাটলে মানুষটাকে এখন এর মাংস বানাবে কেরেখে রেখে বানালে ৩০ দিন তাজা মাংস পেতাম আমরারিংকির বাবা বলল সমস্যা নেই আমই বানাচ্ছি মাংস তারপর ফ্রিজে রেখেদিবোআর বিক্রি করবোআর মেডিকেলে সম্পূর্ণ একটা মানুষের হাড়ের অনেক দামঅনেক লাভ আর এই লোকের চামড়া টা অনেক সুন্দর আমি ধরে দেখেছিরিংকির মা এই সব কথা শুনে ঝারির শুরে বলল খুব ভালো করছেন, এইবার কাজ করেনরিংকির বাবা সুজয় এর মাথা টা হাতে নিয়ে একটা টেবিলে রাখলোআর দেহটা কোলে নিয়ে ঘরে রাখলো আরো কিছু মরা পচা দেহের সাথেরিংকির মা ফোম দিয়ে রক্ত পরিস্কার করতে লাগলো রক্ত জমাট বাদলে সমস্যাএইদিকে রিংকি হাতের কাজ শেষ করে মার সাথে কাজ করতে লাগলোঠিক সেই সময় রিংকির বাবা একটা মৃদু হাসির শব্দ পেলএটা সম্ভব না কারন সম্পর্ণ বাসা সাউন্ড প্রুফ আর বাকি সবাই কাজে ব্যাস্তকারোর হাসার সময় নেইতাই সে মনের ভুল ভেবে কাজ করতে শুরু করলো সে সুজয় এর জামাটা খুলে পিঠে চাপাতি দিয়ে কোপদিবে তখন যা দেখলো তা দেখে তার হাত থেকে চাপাতি পড়ে গেলসে বিকট চিৎকারে কান্না কাটি শুরু করলোসে কাকে মেরেছেযাকে তিনি মেরেছে তিনি তো পুরোহিত তবে কোন সাধারণ দেব দেবীর নাস্বয়ং শয়তানের মন্দিরের পুরোহিততার পিঠে শয়তানের ট্যাটুতখনি রিংকির বাবা সুজয় এর আনা গোলাপ পরীক্ষা করলোএতে যা সে বুঝলো সে তার সৌভাগ্য কে খুন করেছেসুজয় এখনে আসার আসল কারন রিংকি কে নিয়ে শয়তানের সামনে নরবলি দেওয়াএত বড় সৌভাগ্য রিংকির পরিবারের হাত ছাড়া হয়ে গেলরিংকির বাবা আগে জানলে সে নিজে গিয়ে সুজয় এর হাতে রিংকিকে নরবলি দেওয়ার জন্যতার মেয়ে শয়তানের সামনে মাথা দিবে মাথা দিবে এতো বড় সৌভাগ্য কোন মেয়ে র জীবনেই বা আসেএই কথা রিংরির বাবা রিংকির মাকে বলার পর রিংকির মা কান্নাই ভেঙে পড়ে এতো বড় সুযোগ তাদের হাত ছাড়া হয়েছে রিংকির মায়ের ও শখ ছিল সে নিজেকে নরবলি দিবে কোন এক শয়তানের মূর্তির সামনেএতো বড় সুযোগ তার মেয়ের হাতছাড়া হলোরিংকি এই কথা শুনে তারও মন খারাপ হলোকিন্তু এখন কথা হলো সুজয় পুরোহিতের মেরে ফেলার কারনে তাদের উপর অভিশাপ আসবে শয়তানের এবং সুজয় পুরোহিত এরএইসব কথা রিংকির পরিবার যখন আলোচনা করতেছে ঠিক তখনি সুজয় এর মাথা বললো এখন তোরা শাস্তির জন্য প্রস্তত হয় তোদের জীবনে ভয়ংকর কষ্ট আসতেছেরোগ, দুর্ভিক্ষসব আসতেছেতোরা আমারে মারলি এখন তোরা সারাজীবন মরবি প্রতেকটা দিন মরবিতোদের ভালোর জন্য আমি এসেছিলাম তোরা কিনা আমাকে মারলিরিংকির পুরো পরিবার সুজয় এন মাথার কছে এসে শুয়ে পারে।। আর জিজ্ঞেস করে আমাদের মুক্তির উপায় কি?ওই রুমে যত মানুষের মাথা ছিল সব বলে উঠলো আত্মহত্যাআত্মহত্যা করলে শয়তান খুশি হয়রিংকির পরিবার দেরি না করে দড়ি নিয়ে ফ্যানের সাথে বেধে রাত ৩.৩৩ মিনিটে আত্মহত্যা করলোএবং তারা তাদের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করলোএর ঠিক তিন মাস পর কেয়ার টেকার আসলো বিভিন্ন বিল নিতে কিন্তু কেউ নেই বাড়িতে কিন্তু তারা কই গেছে কেউ জানেনাতাই কেয়ার টেকার পুলিশ নিয়ে এসে ফ্লাটের দরজা খুললে রিংকির পরিবারের পচা লাশ আর একটা ঘরে লাশের স্তুপ এরপর আরকি মিডিয়া তে জানাজানি হলোঅনেক লাফ ঝাপ পারলো এই নিয়েপুলিশ কতদিন ঘাটানাটা করে কেস বন্ধ হয়ে গেলসবাই কিছু দিন পর সবকিছু ভুলে গেল এই নিয়ে সব স্বাভাবিক হয়ে গেল।।