Chapter 1
চাঁদের মিষ্টি আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ।কোথাও আশেপাশে ট্রান্সমিটার ব্লাস্ট হয়েছে তাই বিদ্যুৎ নেই। আজ অবশ্য সন্ধ্যায় হালকা বৃষ্টি হয়েছিল বলে ঠান্ডার পরশ রয়েছে ।আমি পা দুটো খাঁটি ছড়িয়ে বসে আছি। মেঝের এক কোনায় অন্তু হালকা মোমবাতির আলোয় একটা বই পড়ছে ।আচঁ করলাম সে আসলে পড়ছে না বরং ভান করছে। একটু ভারী গলায় গর্জে উঠলাম।- শেষ কোন বাক্যটা পড়লি ? সোজা হয়ে বসে বইয়ের দিকে দিকে এক মুহূর্ত তাকিয়ে জ্ঞান অর্জনের ব্যর্থ চেষ্টা করল সে।- মামা এই যে জোয়ার ভাটার কারণ পড়ছিলাম। -মন দিয়ে পড় নাইন ফেল করলে তোকে কে বিয়ে করবে? -না ,করছি । -আজ আমার তোকে ধমক দিতে ইচ্ছা করছে না। এটা সাধারণ ব্যাপার নয়। চারদিকের আবহাওয়া আজ আমার মনকে বিগলিত করেছে। উঠে আমার হিসেবে খাতাটা খুজতে শুরু করলাম। -মামা আমি একটা মেয়েকে ভীষণ পছন্দ করি। -অহেতুক কথা বলে আমার সাথে বেয়াদবি করছিস কেন! -তোমার হাতের লেখার মুখের ভাষা দুই -ই ভালো। -তো ?তাতে কি ? -একটা চিঠি লিখে দেবে ? আমার হিসেবে খাতায় চোখ বোলাতে বোলাতে টেবিলে বসলাম। পাশে এসে দাঁড়ালো অন্তু। আমার দুর্বলতা হলো আমি চিঠি বেশ পছন্দ করি। প্রায় এক যুগ হলো চিঠি লেখা হয়নি। তবে অন্য কারো প্রেমপত্র লেখা লজ্জার বিষয়! এতগুলো মিথ্যা কথা লিখতে আমার কষ্ট যেমন হবে তেমনি ভালোবাসার অসলতা দুর্বলতা সম্পর্কিত প্রতিবেদন লিখে হিম কাণ্ড ঘটিয়ে কিশোর কিশোরীর হৃদয়ে ভাটা আনবো।- ক্ষমা করো ।আমি চিঠি লিখতে পারবো না । অন্তূ তেমন জোর করল না। ম্লান মুখে সে তার পড়ার অভিনয় মনোনিবেশ করল ।চিঠি !খাম সমেত বারাসাতের চিঠিটা আজও আমার ভালো শার্টের বুক পকেটে থাকে ।চিঠিটা পড়া হয়নি। তার অবশ্য দুটি ভালো কারণ রয়েছে। প্রথমত, পড়লে হয়তো জানব সে আমাকে ঘৃণা করে যা শুনে আমার মৃত্যু হবে । দ্বিতীয়ত হতে জানবো সে আমাকে ঘৃণা করে না যা আবারও আমার মৃত্যু ঘটাবে ।অর্থাৎ যাই হোক না কেন আমার মৃত্যু নিশ্চিত ।তাই দুর্বল চিত্তের কাপুরুষ আমি চিঠিখানা খুলিনি। ভয় লাগে হয়তো সে সুখী আছে কিংবা দুঃখী অবশ্য তা জানার অধিকার আমার আছে বলে আমি অবশ্য নিশ্চিত নেই।